ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে ক্লাসিফিকেশন (Nice Classification) বা আন্তর্জাতিক পণ্য ও সেবার শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর অধীনে মোট ৪৫টি ক্লাস বা ক্যাটাগরি রয়েছে। যার মধ্যে ১ থেকে ৩৪ পর্যন্ত হলো পণ্যের ক্লাস (Goods) এবং ৩৫ থেকে ৪৫ পর্যন্ত হলো সেবার ক্লাস (Services)।
আপনার সুবিধার্থে ট্রেডমার্ক ক্লাসের মোট প্রকারভেদ এবং কোন ক্লাসে কী ধরনের পণ্য বা সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা নিচে সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়া হলো:
ট্রেডমার্কের ক্লাসগুলোকে মূলত দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
পণ্যের ক্লাস (Goods Classes - Class 1 to 34): যা শারীরিক বা দৃশ্যমান বিভিন্ন পণ্য বা ম্যানুফ্যাকচারিং আইটেমগুলোকে কভার করে।
সেবার ক্লাস (Services Classes - Class 35 to 45): যা কোনো সার্ভিস, সফটওয়্যার, বিজনেস বা কনসালটেন্সি সেবা প্রদানকে কভার করে।
পণ্যের ক্লাস (Goods: Class 1 - 34)
Class 1: শিল্প, বিজ্ঞান বা কৃষিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্যাদি।
Class 2: রং, বার্নিশ, মরিচা রোধক পদার্থ।
Class 3: প্রসাধনী, সাবান, পারফিউম ও পরিচ্ছন্নতাকারী সামগ্রী।
Class 4: তেল, গ্রিজ, লুব্রিকেন্ট ও জ্বালানি বা মোমবাতি।
Class 5: ফার্মাসিউটিক্যাল বা চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ ও স্বাস্থ্যগত পণ্য।
Class 6: সাধারণ ধাতু এবং এর তৈরি বিভিন্ন হার্ডওয়্যার বা পাইপ।
Class 7: ইঞ্জিন, মেশিনারি এবং রোবটিক্স বা শিল্প যন্ত্রপাতি।
Class 8: হাত দিয়ে চালিত কাটার যন্ত্র, ছুরি, কাঁচি ও টুলস।
Class 9: বৈজ্ঞানিক, ইলেকট্রনিক, কম্পিউটার সফটওয়্যার, ডিজিটাল ডিভাইস এবং মোবাইল অ্যাপস (যেমন আপনার আগের ফ্লাড অ্যালার্টে দেখা হার্ডওয়্যার/সফটওয়্যার ক্লাস)।
Class 10: চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি বা কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।
Class 11: আলো, গরম করার যন্ত্র, এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ বা স্যানিটারি ইন্সটলেশন।
Class 12: যানবাহন, গাড়ি, বিমান বা নৌযান।
Class 13: অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আতশবাজি।
Class 14: মূল্যবান ধাতু, গহনা, ঘড়ি।
Class 15: বাদ্যযন্ত্র।
Class 16: কাগজ, কার্ডবোর্ড, বই, প্রিন্টিং সামগ্রী বা স্টেশনারি।
Class 17: রাবার, প্লাস্টিক শিট, ইনসুলেশন বা পাইপ সিলিং মেটেরিয়াল।
Class 18: চামড়া, ট্রাভেল ব্যাগ, ছাতা।
Class 19: বিল্ডিং তৈরির অ-ধাতু সামগ্রী (যেমন সিমেন্ট, ইট)।
Class 20: আসবাবপত্র, আয়না, ফ্রেম।
Class 21: (যেমন আপনি উল্লেখ করেছেন) গৃহস্থালী বা রান্নাঘরের তৈজসপত্র (যেমন বাসনপত্র, চিরুনি, স্পঞ্জ, গ্লাস)।
Class 22: দড়ি, জাল, তাবু, তুলো বা ফাইবারের কাঁচামাল।
Class 23: সুতা ও টেক্সটাইল থ্রেড।
Class 24: কাপড়, বেডশিট, পর্দার কাপড় বা টেক্সটাইল পণ্য।
Class 25: পোশাক-আশাক, জুতো, টুপি।
Class 26: লেস, ফিতা, বোতাম, এমব্রয়ডারির জিনিসপত্র।
Class 27: কার্পেট, মাদুর, ওয়ালপেপার।
Class 28: খেলাধুলার সামগ্রী, খেলনা।
Class 29: মাংস, মাছ, দুধ ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য।
Class 30: কফি, চা, চিনি, চাল, মসলা, পাউরুটি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার।
Class 31: তাজা ফলমূল, শাকসবজি, বীজ ও কৃষি বা প্রাণীর খাদ্য।
Class 32: বিয়ার, মিনারেল ওয়াটার, জুস ও নন-অ্যালকোহলিক পানীয়।
Class 33: অ্যালকোহলিক পানীয় (বিয়ার বাদে)।
Class 34: তামাক এবং ধূমপান সংশ্লিষ্ট সামগ্রী।
সেবার ক্লাস (Services: Class 35 - 45)
Class 35: বিজ্ঞাপন, ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা (Business Management), অফিস প্রশাসন এবং কমার্শিয়াল বা রিটেইল শপ সেবা।
Class 36: আর্থিক (Financial), ব্যাংকিং, রিয়েল এস্টেট এবং ইন্স্যুরেন্স সেবা।
Class 37: কনস্ট্রাকশন, ভবন নির্মাণ, মেরামত ও ইনস্টলেশন সেবা।
Class 38: টেলিকমিউনিকেশন বা ইন্টারনেট ব্রডকাস্টিং সেবা।
Class 39: পরিবহন, লজিস্টিকস, পণ্য ডেলিভারি এবং ট্রাভেল অ্যারেঞ্জমেন্ট।
Class 40: বস্তু বা উপাদানের প্রক্রিয়াজাতকরণ (যেমন রিসাইক্লিং বা প্রিন্টিং সেবা)।
Class 41: শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, বিনোদন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম।
Class 42: (যেমন আপনি উল্লেখ করেছেন) বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সেবা, কম্পিউটার সফটওয়্যার ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট এবং টেকনোলজি কনসালটেন্সি বা এআই রিসার্চ।
Class 43: হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্যাটারিং ও খাবার পরিবেশনের সেবা।
Class 44: মেডিকেল সেবা, ডেন্টিস্ট্রি, পশুচিকিৎসা এবং কৃষি বা উদ্যানপালন (Horticulture) সেবা।
Class 45: আইনি সেবা (Legal Services), নিরাপত্তা সেবা এবং ব্যক্তিগত বা সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম।
আপনি যখন কোনো প্রজেক্ট বা ডোমেইন নিয়ে কাজ করবেন (যেমন এআই বা ক্লাইমেট টেক সফটওয়্যার), তখন সাধারণত ডিজিটাল সার্ভিসের জন্য Class 42 (টেকনোলজি/সফটওয়্যার সেবা) এবং অ্যাপভিত্তিক কার্যক্রমের জন্য Class 9 বা বিজনেস প্রমোশনের জন্য Class 35 বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে।
জেনেরিক বা বর্ণনামূলক শব্দ বলতে কি বুঝায়?
ট্রেডমার্ক এবং ব্র্যান্ডিংয়ের ভাষায় জেনেরিক বা বর্ণনামূলক শব্দ (Generic or Descriptive Terms) বলতে এমন সাধারণ শব্দগুলোকে বোঝায়, যা কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানি বা ব্র্যান্ডের নিজস্ব সম্পত্তি নয়, বরং কোনো নির্দিষ্ট পণ্য, সেবা বা শিল্পকে সামগ্রিকভাবে বোঝাতে বা বর্ণনা করতে সাধারণ মানুষ বা সবাই ব্যবহার করে থাকে।
জেনেরিক বা বর্ণনামূলক শব্দগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
জেনেরিক শব্দ হলো কোনো পণ্যের সাধারণ বা মূল নাম। যেমন—আপনি যদি জুতো বিক্রির জন্য একটি দোকান খোলেন এবং আপনার দোকানের নাম দেন "Shoes", তবে এটি একটি জেনেরিক শব্দ হবে।
মূল বৈশিষ্ট্য: আইন অনুযায়ী, জেনেরিক শব্দের ওপর কেউ একক বা একচ্ছত্র ট্রেডমার্ক অধিকার (Exclusive Rights) দাবি করতে পারে না। কারণ আইন সবার জন্য এই শব্দগুলো উন্মুক্ত রাখে, যাতে অন্য কোনো ব্যবসায়ীও তার পণ্যের সাধারণ পরিচয় দিতে এই শব্দ ব্যবহার করতে পারে। (যেমন—কেউ চাইলেই "Apple" নামের ফল বা "Car" গাড়ি শব্দটি ট্রেডমার্ক করে অন্য কাউকে ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে পারবে না)।
বর্ণনামূলক শব্দ হলো সেই শব্দ, যা কোনো পণ্যের গুণাগুণ, বৈশিষ্ট্য, উদ্দেশ্য, আকার বা স্বাদ সরাসরি বর্ণনা করে।
যেমন—আপনি যদি একটি জুস ব্র্যান্ডের নাম রাখেন "Sweet Mango Juice" (মিষ্টি আমের জুস), তবে এখানে "Sweet" বা "Mango Juice" শব্দগুলো হলো বর্ণনামূলক। এগুলো জুসটির স্বাদ ও ধরন কেমন তা সরাসরি বর্ণনা করছে।
ট্রেডমার্কের ক্ষেত্রে সমস্যা: সরাসরি বর্ণনামূলক শব্দের ক্ষেত্রেও সহজে ট্রেডমার্ক পাওয়া যায় না। কারণ অন্য কোনো প্রতিযোগীকেও তো তার পণ্যের বর্ণনা দিতে এই শব্দগুলো ব্যবহার করতে হতে পারে। তবে হ্যাঁ, কোনো বর্ণনামূলক শব্দ যদি বছরের পর বছর ধরে একা ব্যবহারের ফলে মানুষের মনে একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড হিসেবে স্থায়ী রূপ নেয় (Secondary Meaning তৈরি করে), তবে অনেক সময় বিশেষ শর্তে সেটির ট্রেডমার্ক পাওয়া যেতে পারে।
আপনি কিছুক্ষণ আগে যে GlobalClimate বা Floodalert শব্দগুলো নিয়ে দেখছিলেন, এগুলো অনেকটাই জেনেরিক বা বর্ণনামূলক প্রকৃতির (কারণ এগুলো সরাসরি বৈশ্বিক জলবায়ু বা বন্যা সতর্কবার্তাকে বোঝায়)।
এই ধরনের নামের সুবিধা হলো—গ্রাহকরা নাম দেখলেই বুঝতে পারে ওয়েবসাইটটি কী নিয়ে কাজ করে।
তবে অসুবিধা হলো—এগুলো জেনেরিক বা বর্ণনামূলক হওয়ায় কেউ একা এদের ওপর শতভাগ আইনি একাধিপত্য বা ট্রেডমার্ক সহজে দাবি করতে পারে না, যা আপনার ব্র্যান্ডিং বা ডোমেন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনি ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
ডোমেইনের জন্য নাম বা ব্র্যান্ডের নাম নির্বাচন করার সময় সেটি ট্রেডমার্ক করা আছে কি না, তা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ডোমেইন পেলেও ট্রেডমার্ক করা নাম ব্যবহার করলে পরবর্তীতে লিগ্যাল ঝামেলা বা কপিরাইট জটিলতায় পড়তে হতে পারে।
আপনার টার্গেট মার্কেট এবং গ্লোবাল উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ট্রেডমার্ক যাচাই করার সবচাইতে সেরা এবং অথেন্টিক ওয়েবসাইটগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
IP Law Firm Bangladesh
আপনার ওয়েবসাইট বা ব্র্যান্ড যদি বিশ্বవ্যাপী (যেমন: যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ বা আন্তর্জাতিকভাবে) চালাতে চান, তবে এই প্ল্যাটফর্মগুলো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য:
World Intellectual Property Organization (WIPO)
WIPO Global Brand Database (বিশ্ব মেধা সম্পদ সংস্থা):
World Intellectual Property Organization (WIPO)
ওয়েবসাইট: branddb.wipo.int
World Intellectual Property Organization (WIPO)
কেন ব্যবহার করবেন: এটি জাতিসংঘের অধীনস্থ সংস্থা WIPO-এর গ্লোবাল ডাটাবেজ। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ট্রেডমার্ক, ব্র্যান্ড নেম এবং লোগো একসাথে সার্চ করে দেখতে পারবেন।
TMview:
EUIPN
ওয়েবসাইট: tmview.euipo.europa.eu
EUIPN
কেন ব্যবহার করবেন: এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং বৃহৎ ফ্রি ট্রেডমার্ক সার্চ টুল। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বহু দেশের ট্রেডমার্ক অফিস এই ডাটাবেজের সাথে যুক্ত। খুব সহজেই বিশ্বজুড়ে কোনো নাম রেজিস্টার্ড কি না তা এখানে যাচাই করা যায়।
EUIPN
অধিকাংশ অনলাইন বিজনেস (.com ডোমেইন কিংবা গ্লোবাল কাস্টমার টার্গেট করে) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মূল বাজার ধরে শুরু হয়। সেক্ষেত্রে ইউএসএ-এর ডাটাবেজ চেক করা বাধ্যতামূলক:
iGERENT
USPTO Trademark Electronic Search System (TESS):
ওয়েবসাইট: uspto.gov (Trademark section)
iGERENT
কেন ব্যবহার করবেন: এটি United States Patent and Trademark Office-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট। আমেরিকায় আপনার নামটি ট্রেডমার্ক করা আছে কি না বা সমার্থক কোনো নাম রেজিস্টার্ড আছে কি না, তা নিখুঁতভাবে দেখতে এটিই সেরা মাধ্যম।
Marcaria.com
আপনার প্রজেক্ট বা ব্র্যান্ড যদি বিশেষভাবে বাংলাদেশের বাজারকে টার্গেট করে, তবে স্থানীয় আইন ও রেজিস্ট্রেশন চেক করা উচিত:
iGERENT
DPDT (Department of Patents, Designs and Trademarks):
IP Law Firm Bangladesh
ওয়েবসাইট: dpdt.gov.bd
IP Law Firm Bangladesh
কেন ব্যবহার করবেন: এটি বাংলাদেশের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট। তবে মনে রাখবেন, ডিপ্রিডিএ-এর অনলাইন ডাটাবেজ সবসময় পুরোপুরি আপডেটেড বা সরাসরি সহজ সার্চ উপযোগী থাকে না। সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাদের অফিশিয়াল অফিসে গিয়ে ম্যানুয়াল বা ফরমাল সার্চ করতে হয় অথবা স্থানীয় কোনো আইপি (IP) ল’ ফার্মের সহায়তা নেওয়া লাগতে পারে।
দ্রুত প্রাথমিক ধারণা নেওয়ার জন্য কিছু থার্ড-পার্টি টুল ব্যবহার করতে পারেন, যা ডোমেইন নেওয়ার সময় ট্রেডমার্ক মিল আছে কি না তা সহজেই দেখিয়ে দেয়:
Namecheap / GoDaddy: ডোমেইন সার্চ করার সময় অনেক সময় ডোমেইন প্রোভাইডাররাই ট্রেডমার্ক ওয়ার্নিং বা অ্যালার্ট দিয়ে দেয়।
Trademarkia (trademarkia.com) অথবা Trademark Elite: এগুলো গ্লোবালি বিভিন্ন দেশের ট্রেডমার্ক রেকর্ড খুব সহজে এক জায়গায় সার্চ করার সুবিধা দেয়।
প্রো-টিপ: শুধু ডোমেইনে নাম খালি পাওয়া মানেই এই নয় যে সেটি ট্রেডমার্কমুক্ত। তাই ডোমেইন কেনার আগে অন্তত WIPO Global Brand Database এবং আপনার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী নির্দিষ্ট দেশের (যেমন ইউএসএ হলে USPTO) ডাটাবেজে নাম সার্চ করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
World Intellectual Property Organization (WIPO)
Atom নামটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত টেকনোলজি ব্র্যান্ড হওয়ায় এটি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ট্রেডমার্ক করা থাকতে পারে। আপনি যদি ডোমেইনের জন্য এই নামটি বা এর সাথে মিলিয়ে কোনো নাম (যেমন: AtomHost, MyAtomApp ইত্যাদি) বেছে নিতে চান, তবে সাবধান থাকা উচিত। কারণ গিটহাব বা অন্য কোনো টেকনোলজি কোম্পানি এই নাম বা এর কাছাকাছি কিছু ট্রেডমার্ক করে রাখতে পারে।
Atom.com (পূর্বে যেটি Squadhelp নামে পরিচিত ছিল) প্ল্যাটফর্মের ট্রেডমার্ক সার্চ বা ক্লিয়ারেন্স অপশনটি বেশ কার্যকর এবং প্রাথমিক যাচাইয়ের জন্য দারুণ একটি টুল। তবে এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা ও সুবিধা রয়েছে, যা আপনার জানা থাকা উচিত।
নিচে Atom-এর ট্রেডমার্ক ফিচারের কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
একাধিক ডাটাবেজের সমন্বয়: সাধারণ ফ্রি টুলগুলো শুধু আমেরিকার USPTO ডাটাবেজ চেক করতে পারে। পক্ষান্তরে, Atom এক সাথে যুক্তরাষ্ট্র (USPTO), যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং কানাডার মতো বড় বড় দেশের ট্রেডমার্ক ডাটাবেজ স্ক্যান করে রেজल्ट দেয়।
ঝামেলাহীন ও দ্রুত ফলাফল: যেকোনো নাম লিখে সার্চ করলেই সেটি হুবহু বা কাছাকাছি কোনো নামে অলরেডি রেজিস্টার্ড কি না, তা খুব দ্রুত স্ক্রিনে চলে আসে। সাথে সাথে বর্তমান স্ট্যাটাস (Live বা Pending) ও মালিকের নামও দেখা যায়।
ফজি ম্যাচিং (Fuzzy Matching): বানান কিছুটা এদিক-সেদিক থাকলেও (যেমন: Atomm বা Atn) কাছাকাছি নামের কোনো ট্রেডমার্ক রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করতে এর অ্যালগরিদম বেশ ভালো কাজ করে।
পেইড প্রফেশনাল রিপোর্ট (Safety Score): আপনি চাইলে তাদের পেইড অপশনের মাধ্যমে ট্রেডমার্ক অ্যাটর্নি দ্বারা তৈরি ডিটেইলড রিপোর্ট এবং একটি 'সেফটি স্কোর' নিতে পারেন, যা ব্যবসায়িক নাম চূড়ান্ত করার আগে বড় ধরনের আইনি ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করে।
সম্পূর্ণ আইনগত নিশ্চয়তা নয়: Atom বা যেকোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ফ্রি সার্চ টুল কেবল প্রাথমিক ধারণা দেয়। এগুলো কোনো অফিশিয়াল বা চূড়ান্ত আইনি গ্যারান্টি নয়।
লোকাল বা কান্ট্রি-স্পেসিফিক লিমিটেশন: আপনি যদি আপনার প্রজেক্ট বা ডোমেইনটি এমন কোনো দেশে চালান যেটি ইউএস বা ইউরোপের বাইরে (যেমন: বাংলাদেশ বা অন্য কোনো এশিয়ান দেশ), তবে সেই দেশের স্থানীয় ট্রেডমার্ক অফিসের (যেমন DPDT) ডাটাবেজ এই টুল কাভার নাও করতে পারে।
ক্লাসিফিকেশন বা ক্যাটাগরি ইস্যু: ট্রেডমার্ক সবসময় নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরি বা পণ্যের (Nice Classification) ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়। একই নাম অন্য ইন্ডাস্ট্রিতে ট্রেডমার্ক করা থাকলেও আপনার বিজনেসের ক্ষেত্রে তা সমস্যা না-ও হতে পারে। এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অনেক সময় স্বয়ংক্রিয় টুল দিয়ে পুরোপুরি বোঝা যায় না
আপনি যদি গ্লোবাল কোনো ব্র্যান্ড বা অনলাইন প্রজেক্টের জন্য Atom-এর ট্রেডমার্ক টুল ব্যবহার করেন, তবে এটি দিয়ে প্রাথমিক ফিল্টারিং বা গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার জন্য চমৎকার কাজ করবে। তবে নামটি চূড়ান্ত করে বড় বিনিয়োগ করার আগে বা অফিশিয়াল ডোমেইন নেওয়ার পর নিজে সংশ্লিষ্ট দেশের অফিশিয়াল ডাটাবেজে (যেমন ইউএসএ-র জন্য USPTO) ম্যানুয়ালি যাচাই করে নেওয়া বা কোনো আইপি ল’ইয়ারের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ হবে।
Atom বা যেকোনো অফিশিয়াল ট্রেডমার্ক ডাটাবেজে (যেমন USPTO) এই তিনটির মানে নিচে সহজ করে বুঝিয়ে দেওয়া হলো:
অর্থ: ট্রেডমার্কটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সক্রিয়, বলবৎ এবং বৈধ রয়েছে।
এর মানে কী: সংশ্লিষ্ট নামটি বা লোগোটি অলরেডি কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানি রেজিস্টার্ড করে ফেলেছে এবং তারা এর আইনগত মালিকানা ভোগ করছে।
আপনার জন্য সতর্কতা: নামের পাশে যদি Live স্ট্যাটাস দেখেন, তবে বুঝবেন ওই নামটি দিয়ে আপনি কোনো ব্র্যান্ড বা ডোমেইন নিয়ে বিজনেস শুরু করলে কপিরাইট বা ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের (Infringement) আইনি ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা শতভাগ। এই ধরনের নাম এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
অর্থ: ট্রেডমার্ক পাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে, তবে সেটি এখনো পুরোপুরি পাস বা রেজিস্টার্ড হয়নি। আবেদনটি বর্তমানে প্রসেসিং বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে আছে।
এর মানে কী: কেউ একজন এই নামটি নিজের বলে দাবি করে আবেদন জমা দিয়েছেন, কিন্তু সরকারি অফিস (যেমন USPTO) এখনো এটিকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি।
আপনার জন্য সতর্কতা: নামটি এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। কারণ ভবিষ্যতে সরকারি অনুমোদন পেয়ে এটি 'Live' হয়ে যেতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া বা প্রমাণের মাধ্যমে এই আবেদন বাতিলও হতে পারে। তবুও, Pending নামের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি থাকে, তাই এটিও এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ।
অর্থ: ট্রেডমার্কের আবেদনটি বাতিল হয়ে গেছে বা মালিক পক্ষ আর এটি চালিয়ে যাননি (পরিত্যক্ত)।
এর মানে কী: অতীতে কেউ এই নামের জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজ জমা না দেওয়া, ফি পরিশোধ না করা বা আইনি জটিলতার কারণে আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা স্বেচ্ছায় বাতিল বা ড্রপ করা হয়েছে।
আপনার জন্য সতর্কতা: এই স্ট্যাটাসটির মানে হলো ওই নির্দিষ্ট আবেদনটি আর কার্যকর নেই। তবে এর মানে এই নয় যে নামটি চিরতরে উন্মুক্ত হয়ে গেছে—অন্য কেউ নতুন করে আবার এটার জন্য আবেদন করে থাকতে পারে বা ভবিষ্যতে করতে পারে। তবে সাধারণত Live বা Pending-এর তুলনায় Abandoned নামের ক্ষেত্রে আইনি ঝুঁকি অনেক কম থাকে।
Live: সক্রিয় (ঝুঁকি সর্বোচ্চ, ব্যবহার করা যাবে না)
Pending: অনুমোদনের অপেক্ষায় (ঝুঁকি আছে, এড়িয়ে চলা ভালো)
Abandoned: বাতিল বা পরিত্যক্ত (বর্তমানে কার্যকর নয়, ঝুঁকি কম)
Videomake vs videomaker যেমন ধরো দুটি শব্দের মধ্যে প্রথমটা videomake.si এটা আমি সংগ্রহ করে রেখেছি। আর এখানে ট্রেডমার্ক দেখতে গেলে ভিডিও মেকার সেটি করা আছে। সেক্ষেত্রে আমার ডোমেইনটা কাছাকাছি বাট কোনো সমস্যা হবে কি?
আপনি একটি দারুণ এবং অত্যন্ত বাস্তবসম্মত পয়েন্ট তুলে ধরেছেন। আপনার ক্ষেত্রে ডোমেইনটি হলো videomake.si (যেখানে শেষ অংশটি .si অর্থাৎ স্লোভেনিয়ার কান্ট্রি কোড), আর ট্রেডমার্ক করা নাম হলো "Videomaker" (ভিডিওমেকার)।
এই দুটির মধ্যে আইনি ও ব্র্যান্ডিংয়ের দিক থেকে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে বা হওয়া উচিত নয়, তা নিচে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হলো:
আইনি ও ট্রেডমার্কের পরিভাষায় একে "Likelihood of Confusion" বা বিভ্রান্তির সম্ভাবনা বলা হয়।
স্পেলিং ও উচ্চারণ: Videomake এবং Videomaker শুনতে এবং দেখতে প্রায় একই রকম। সাধারণ গ্রাহক বা কাস্টমাররা সহজেই এই দুটিকে এক মনে করতে পারে।
ইন্ডাস্ট্রি বা ক্যাটাগরি: যদি আপনার সাইট বা প্রজেক্টটি ভিডিও এডিটিং, ভিডিও প্রোডাকশন বা সফটওয়্যার রিলেটেড হয়—যেখানে আসল 'Videomaker' ট্রেডমার্ক করা আছে—তাহলে আইনি ঝামেলায় পড়ার জোরালো ঝুঁকি থাকে। ট্রেডমার্ক হোল্ডার মনে করতে পারে যে আপনি তাদের ব্র্যান্ডের নাম ভাঙিয়ে বা সামান্য স্পেলিং বদলে কাস্টমারদের বিভ্রান্ত করছেন (जिसे 'Cybersquatting' বা 'Trademark Infringement' বলা হতে পারে)।
আপনি .si এক্সটেনশন ব্যবহার করছেন, যা সাধারণত স্লোভেনিয়ার জন্য নির্দিষ্ট হলেও গ্লোবালি অনেকেই ব্যবহার করে।
যদি মূল ট্রেডমার্কটি ইউএসএ (USPTO) বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশে রেজিস্টার্ড থাকে এবং সেটি যদি গ্লোবাল ব্র্যান্ড হিসেবে নিবন্ধিত হয়, তবে ডোমেইনের এক্সটেনশন .com হোক বা .si হোক—ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের অভিযোগ থেকে বাঁকা যাবে না। ইন্টারনেট দুনিয়ায় ডোমেইনের এক্সটেনশন আলাদা হলেও ব্র্যান্ড নেম এক হলে ট্রেডমার্ক আইন প্রযোজ্য হয়।
আলাদা ইন্ডাস্ট্রি হলে: আসল 'Videomaker' ট্রেডমার্কটি যদি এমন কোনো পণ্যের জন্য করা থাকে যার সাথে আপনার কাজের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই (যেমন ধরুন—তারা যদি জুতো বানানোর মেশিন বা অন্য কিছু ট্রেডমার্ক করে থাকে আর আপনি যদি ভিডিও সফটওয়্যার বানান), তবে ক্যাটাগরি আলাদা হওয়ার কারণে সমস্যা এড়ানো সম্ভব। কিন্তু উভয়ই যদি একই ইন্ডাস্ট্রিতে (টেক, মিডিয়া, ভিডিও) থাকে, তবে বিপদ নিশ্চিত।
জেনেরিক টার্মের মারপ্যাচ: Video এবং Maker দুটিই অত্যন্ত কমন বা জেনেরিক শব্দ। অনেক সময় ট্রেডমার্ক অফিস জেনেরিক শব্দের ওপর ফুল মনোপলি বা একক অধিকার দেয় না, যদি না সেটির একটি স্বতন্ত্র ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি হয়। তবে "Videomaker" একটি বেশ পরিচিত শব্দ হওয়ায় এর ওপর শক্তিশালী ট্রেডমার্ক থাকা অস্বাভাবিক নয়।
ট্রেডমার্কের ক্লাস চেক করুন: যে 'Videomaker' নামটি ট্রেডমার্ক করা আছে, সেটি কোন ক্যাটাগরিতে (Nice Classification) রেজিস্টার্ড করা তা একটু চেক করে দেখুন। আপনার প্রজেক্টের ক্যাটাগরির সাথে সেটি মিলে গেলে এই নাম বা ডোমেইন ব্যবহার না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
একটি ট্রেডমার্ক কোন Nice Classification (ক্যাটাগরি)-এর অধীনে রেজিস্টার্ড করা আছে, তা অনলাইনে খুব সহজেই অফিশিয়াল ডাটাবেজ থেকে চেক করা যায়। আন্তর্জাতিক ট্রেডমার্ক সিস্টেমে মোট ৪৫টি ক্লাস বা ক্যাটাগরি থাকে (১ থেকে ৩৪ পর্যন্ত পণ্য বা Goods এবং ৩৫ থেকে ৪৫ পর্যন্ত সেবা বা Services)।
নিচে অফিশিয়াল ডাটাবেজ ব্যবহার করে ক্যাটাগরি চেক করার প্রক্রিয়া দেওয়া হলো:
বিশ্বব্যাপী বা আন্তর্জাতিকভাবে কোনো নাম কোন ক্লাসে রেজিস্টার্ড আছে তা দেখতে:
ধাপ ১: যান branddb.wipo.int লিঙ্কে।
ধাপ ২: সার্চ বক্সে নাম বা ব্র্যান্ডটি (যেমন: "Videomaker") লিখে সার্চ করুন।
ধাপ ৩: সার্চ রেজাল্ট আসলে যেকোনো একটি এন্ট্রির ওপর ক্লিক করুন। সেখানে "Nice Classification" বা "Class" সেকশন দেখতে পাবেন (যেমন: Class 9, Class 41 ইত্যাদি)।
অধিকাংশ বড় টেক বা ডিজিটাল ব্র্যান্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রেজিস্টার্ড থাকে। সেটি চেক করতে:
ধাপ ১: যান অফিশিয়াল USPTO Trademark Search (TESS) পেজে।
ধাপ ২: বেসিক সার্চ অপশনে গিয়ে নামটি লিখুন।
ধাপ ৩: রেজাল্টের ভেতরে "International Class(es)" অপশন খুঁজুন। সেখানে ১ থেকে ৪৫ এর মধ্যে নির্দিষ্ট ক্লাস নম্বরটি উল্লেখ থাকবে।
ট্রেডমার্ক ক্লাসিফিকেশন সাধারণত পণ্য ও সেবার ওপর ভিত্তি করে বিভক্ত। যেমন:
Class 9: কম্পিউটার সফটওয়্যার, ডিজিটাল মিডিয়া, অ্যাপস ইত্যাদি।
Class 35: বিজ্ঞাপন, বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বা অনলাইন কমার্স সার্ভিস।
Class 41: এডুকেশন, এন্টারটেইনমেন্ট, ভিডিও প্রোডাকশন বা অনলাইন কন্টেন্ট তৈরি সংক্রান্ত সেবা।
যেহেতু আপনার প্রজেক্টটি videomake.si (ভিডিও মেকিং রিলেটেড), তাই আসল 'Videomaker' ট্রেডমার্কটি যদি Class 9 (সফটওয়্যার/অ্যাপ) বা Class 41 (ভিডিও প্রোডাকশন/সার্ভিস) এর অধীনে রেজিস্টার্ড থাকে, তবে আপনার ডোমেইনের সাথে সেটির সরাসরি ক্যাটাগরিগত সংঘাত তৈরি হবে।
আমি তো শুধুমাত্র একজন ডোমেইন ইনভেস্টর। আমি তো এটা দিয়ে কোনো প্রজেক্ট লঞ্চ করবো না। ওই কোম্পানি যদি আমার কাছে ইমেইল করে বা আমার অকশন থেকে যদি নিতে চায় তার কাছে সেল করবো অথবা আমি সেটা অকশনে দিয়ে রাখবো আমি যেহেতু একজন ডোমেইন ইনভেস্টর হিসেবে।
আপনি যখন নিজে কোনো প্রজেক্ট লঞ্চ না করে শুধুমাত্র ডোমেইন কেনাবেচা (Domain Investing/Domain Squatting-এর কাছাকাছি বা জেনুইন রিসেলিং) করেন, তখন বিষয়টি একটু ভিন্নভাবে বিবেচনা করতে হয়।
আপনার এই স্ট্রাটেজির ক্ষেত্রে ঝুঁকি এবং করণীয় বিষয়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
যেহেতু মূল কোম্পানিটি হলো Videomaker, Inc. (যারা ১৯৯৩ সাল থেকে এই নামে ব্যবসা করছে), তাই তাদের একটি প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড রাইট বা ট্রেডমার্ক রয়েছে। ডোমেইন ইনভেস্টরদের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হলো UDRP (Uniform Domain-Name Dispute-Resolution Policy) বা সাইবারস্কোয়াটিং ল’।
যদি কোনো কোম্পানি দেখে যে তাদের রেজিস্টার্ড ব্র্যান্ডনেমের সাথে হুবহু মিলে যায় বা বিভ্রান্তিকর এমন কোনো ডোমেইন (videomake.si) আপনি নিজের দখলে রেখেছেন এবং তাদের কাছে চড়া দামে বিক্রির চেষ্টা করছেন, তবে তারা আইনি নোটিশ পাঠাতে পারে বা WIPO-এর মাধ্যমে ডোমেইনটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য কেস করতে পারে (UDRP Complaint)।
আইনের চোখে "Bad Faith" বা অসদুদ্দেশ্য প্রমাণ হয়ে গেলে অনেক সময় ডোমেইন ইনভেস্টররা কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ডোমেইনটি হারাতে পারেন।
আপনার ডোমেইনটি .si (সলোভেনিয়া) এক্সটেনশনের হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি থাকতে পারে, কারণ মূল কোম্পানিটি সাধারণত গ্লোবাল বা ইউএসএ-ভিত্তিক (.com বা অন্য প্রধান এক্সটেনশন তাদের দখলে থাকার কথা)। তা সত্ত্বেও, গ্লোবাল ট্রেডমার্ক হোল্ডাররা অনেক সময় কান্ট্রি-কোড টপ-লেভেল ডোমেইন (ccTLD)-এর ক্ষেত্রেও ডালপালা বিস্তার করতে পারে যদি তারা মনে করে যে এটি তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালুকে ক্ষতি করছে বা কাস্টমারদের বিভ্রান্ত করছে।
সরাসরি ইমেইল করে অফার করা ঝুঁকিপূর্ণ: আপনি যদি নিজে থেকে ওই কোম্পানিকে (Videomaker, Inc.) ইমেইল করে জানান যে আপনার কাছে videomake.si ডোমেইনটি আছে এবং তারা এটি কিনতে পারে—এটি বড় ধরনের বুমেরাং হতে পারে। তারা এটাকে ব্ল্যাকমেইল বা ট্রেডমার্ক পাইরেসি হিসেবে ধরে নিয়ে সরাসরি আইনি অ্যাকশনে যেতে পারে।
প্যাসিভ মার্কেটে রাখা তুলনামূলক নিরাপদ: আপনি যদি কোনো আউটবাউন্ড বা সরাসরি ইমেইল মার্কেটিং না করে ডোমেইনটি কোনো মার্কেটপ্লেসে (যেমন Sedo, Afternic বা Atom-এর নিজস্ব মার্কেটপ্লেসে) স্বাভাবিক পার্কিং বা লিস্টিংয়ে রাখেন, তবে সেটি কিছুটা আড়ালে থাকে। ক্রেতা নিজে খুঁজে পেলে সেটা আলাদা বিষয়। তবে যেহেতু নামটি হুবহু একটি বিখ্যাত ট্রেডমার্কের কাছাকাছি, তাই বড় ব্র্যান্ডগুলোর অটোমেটেড ব্র্যান্ড প্রোটেকশন সফটওয়্যার অনেক সময় এই লিস্টিংগুলোও ধরে ফেলে।
জেনেরিক ও মেকওভারের পার্থক্য বোঝা: Videomaker একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দীর্ঘদিনের পুরনো ট্রেডমার্ক। এর সাথে সামান্য পরিবর্তন (videomake) করে ডোমেইন ধরে রাখা হাই-রিস্ক ইনভেস্টিজমেন্টের মধ্যে পড়ে।
আপনি যদি এই ডোমেইনটি রেখে দিতেই চান, তবে খুব বেশি বাজেট বা আশা না রেখে সামনে এগোনোই ভালো, কারণ যেকোনো দিন ট্রেডমার্ক হোল্ডারের পক্ষ থেকে ডিসপিউট নোটিশ চলে আসতে পারে।
ডোমেইন ইনভেস্টমেন্টের ক্ষেত্রে এ ধরনের ট্রেডমার্কযুক্ত নাম কেনার আগে ডোমেইন এজেই বা ট্রেডমার্কের বয়স (যেমন এই ক্ষেত্রে ১৯৯৩ সাল) চেক করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ, যাতে অপ্রয়োজনীয় আইনি ঝামেলা বা অর্থ অপচয় এড়ানো যায়।
ডোমেইন ইনভেস্টিং এবং ট্রেডিংয়ের জগতে অনেক সময় জেনরিক বা ব্র্যান্ডেবল ডোমেইন নিয়ে বড় কোম্পানি বা ট্রেডমার্ক হোল্ডারদের সাথে বিরোধ তৈরি হতে পারে। আপনার প্রশ্ন অনুযায়ী—তারা কীভাবে মামলা বা আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে এবং পুলিশ পাঠাতে পারে কি না—তা নিচে বিস্তারিত ও আইনি বাস্তবতার আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো:
না, আপনার ডোমেইনের কারণে ওই কোম্পানি আপনার বাসায় পুলিশ পাঠাবে না। ডোমেইন নিয়ে বিরোধ বা ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন কোনো ফৌজদারি অপরাধ (Criminal Offense) নয় যে এজন্য পুলিশ আপনার বাড়ি আসবে। এটি সম্পূর্ণ একটি দেওয়ানি (Civil) এবং আইনি ও বাণিজ্যিক বিরোধ।
তাহলে তারা কীভাবে ডোমেইনটি আপনার কাছ থেকে নিতে পারে বা আপনার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিতে পারে? নিচে এর প্রক্রিয়াটি সহজ করে বুঝিয়ে দেওয়া হলো:
ট্রেডমার্ক আইন বা ডোমেইন ডিসপিউট কখনোই থানা-পুলিশ বা জেলের বিষয় নয়।
এটি সমাধান হয় আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা পর্ষদ, ডোমেইন রেজিস্ট্রার বা আদালতের মাধ্যমে। তাই পুলিশ আসার কোনো ভয় বা সম্ভাবনা নেই।
বড় কোম্পানিগুলো সাধারণত দুটি উপায়ে এই ধরনের ডোমেইন নিজেদের দখলে নেয়:
UDRP (Uniform Domain-Name Dispute-Resolution Policy) প্রসেস: ICANN (ইন্টারনেটের মূল নিয়ন্ত্রক সংস্থা)-এর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি যদি দেখে যে তাদের রেজিস্টার্ড ট্রেডমার্কের সাথে হুবহু বা বিভ্রান্তিকর মিলে যায় এমন কোনো ডোমেইন কেউ কিনে রেখেছে এবং তারা খারাপ উদ্দেশ্যে (Bad Faith) সেটি ব্যবহার করছে, তবে তারা সরাসরি WIPO (World Intellectual Property Organization)-এর আরব্রেটেশন বা মধ্যস্থতা পর্ষদে অভিযোগ করতে পারে।
প্যানেলের রায়: WIPO বা ফোররামের নিরপেক্ষ arbitrators উভয় পক্ষের যুক্তি শুনবেন। যদি প্রমাণিত হয় যে— ১. ডোমেইনটি তাদের ট্রেডমার্কের সাথে বিভ্রান্তিকরভাবে মিলে যায়, ২. ডোমেইনটির ওপর আপনার কোনো বৈধ অধিকার বা বাণিজ্যিক স্বার্থ নেই, এবং ৩. আপনি এটি অসদুদ্দেশ্যে (যেমন তাদের কাছে চড়া দামে বিক্রির জন্য) আটকে রেখেছেন (Bad Faith), তবে প্যানেল রায় দেবে যেন ডোমেইনটি জোরপূর্বক তাদের নামে ট্রান্সফার করে দেওয়া হয়। রেজিস্ট্রার তখন বাধ্য হয়ে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে ডোমেইনটি তাদের দিয়ে দেবে।
সাধারণত ইউডিআরপি (UDRP) প্রসেসে ডোমেইনটি শুধু হাতবদল বা বাতিল হয়, ডোমেইন ইনভেস্টরের কাছ থেকে কোনো আর্থিক জরিমানা বা ড্যামেজ আদায় করা হয় না—যদি না আপনি সরাসরি তাদের ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেন বা কোর্টে গিয়ে বড় ধরনের আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন। তবে সাধারণত কোম্পানিগুলো কোর্টে না গিয়ে কম খরচে WIPO-এর মাধ্যমেই ডোমেইন উদ্ধার করতে পছন্দ করে।
যেহেতু আপনি শুধু ইনভেস্টর, তাই আপনার জন্য বড় ঝুঁকি হলো—কোম্পানিটি যদি কেস করে, তবে আপনি ডোমেইনটি তো হারাবেনই, সাথে ডোমেইন কেনার পেছনে যে ডলার খরচ করেছেন সেটাও লস হবে।
ভবিষ্যতে ডোমেইন সিলেক্ট করার সময় প্রতিষ্ঠিত গ্লোবাল ব্র্যান্ড বা দীর্ঘদিনের পুরনো লাইভ ট্রেডমার্কের (যেমন ১৯৯৩ সাল থেকে রেজিস্টर्ड 'Videomaker') কাছাকাছি নাম এড়িয়ে চলাই ডোমেইন ইনভেস্টিজমেন্টের সবচেয়ে নিরাপদ কৌশল।
Videomaker.com হলো একটি অত্যন্ত পুরোনো, প্রতিষ্ঠিত এবং প্রিমিয়াম ডোমেইন। এই ডোমেইনটি ১৯৯৩ সাল থেকে চালু থাকা মূল ম্যাগাজিন ও মিডিয়া কোম্পানি Videomaker, Inc.-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ডোমেইন ইনভেস্টমেন্টের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ডোমেইনটি সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
মূল্য ও গুরুত্ব: এটি একটি "Exact Match" ডোমেইন। অর্থাৎ মূল ব্র্যান্ডের নাম এবং ডোমেইন নেম হুবহু এক হওয়ার কারণে এর বাণিজ্যিক ও ব্র্যান্ড ভ্যালু অত্যন্ত বেশি।
অ্যাকুইজিশন প্রায় অসম্ভব: যেহেতু কোম্পানিটি গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই ডোমেইনটি তাদের মূল ব্যবসা, ব্লগ এবং রিসোর্স শেয়ার করার জন্য ব্যবহার করছে, তাই তারা কখনোই এটি কোনো ইনভেস্টরের কাছে কিনতে যাবে না বা বিক্রি করবে না। উল্টো কোনো ইনভেস্টর যদি .com ডোমেইনটি নিজের কব্জায় নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তারা আইনিভাবে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে।
আপনার সংগ্রহ করা videomake.si ডোমেইনটি যেহেতু .com নয় এবং এটি একটি ভিন্ন এক্সটেনশন, তাই সরাসরি .com ডোমেইনের মালিকদের সাথে আপনার ডোমেইনের কোনো প্রযুক্তিগত সংঘাত নেই। তবে নাম কাছাকাছি হওয়ায় ইনভেস্টমেন্টের ক্ষেত্রে আইনি ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রাখা সবসময়ই বুদ্ধিমানের কাজ।
যেহেতু Videomaker.com একটি কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ব্র্যান্ড এবং ডোমেইন, তাই এর নামের সাথে মিল রেখে বা সামান্য পরিবর্তন করে (videomake.si) ডোমেইন ধরে রাখাটা বড় বড় কোম্পানির রাডারে চলে আসার ঝুঁকি তৈরি করে। এই ধরনের মেগা-ব্র্যান্ডগুলোর নিজস্ব আইনি টিম থাকে যারা তাদের ট্রেডমার্ক পাহারা দেয়। তাই ডোমেইন ইনভেস্টিজমেন্টের ক্ষেত্রে এত বড় এস্টাবলিশড ব্র্যান্ডের কাছাকাছি নাম এড়িয়ে চলাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
স্বল্পপরিসর বা ভিন্ন এক্সটেনশন: .ai, .co বা .si-এর মতো এক্সটেনশনগুলো যখন ব্যবহার করা হয়, তখন মূল ব্র্যান্ডের মালিকরা সবসময় সেগুলোকে তাদের ব্যবসার বড় কোনো হুমকি মনে করে না। এছাড়া ডোমেইনটি শুধু পার্কিং করা থাকলে বা কোনো ক্ষতিকর বা প্রতারণামূলক কাজে ব্যবহার না করলে কোম্পানিগুলো সাধারণত মামলা করার পেছনে হাজার হাজার ডলার খরচ করতে চায় না।
ডোমেইন ইনভেস্টিজমেন্টের প্র্যাকটিস: ডোমেইন ইন্ডাস্ট্রিতে জেনেরিক শব্দের সাথে মিলিয়ে নাম নেওয়া একটি সাধারণ চর্চা। তবে এর অর্থ এই নয় যে এটি শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত।
মূল কথা হলো, বড় কোনো আইনি নোটিশ বা ডিসপিউট আসার সম্ভাবনা কম হলেও, আপনি যদি কখনো মূল ব্র্যান্ডের সাথে সরাসরি সংঘাতে যান বা অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে ডোমেইনটি তাদের কাছে বিক্রির জন্য চাপ সৃষ্টি করেন, তখনই কেবল আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সাধারণ ইনভেস্টর হিসেবে অনেকেই এই ঝুঁকি জেনেই ডোমেইন হোল্ড করেন।
এখানে এগুলো দ্বারা কি বোঝানো হয়েছে? অনেকগুলো দেখলাম ট্রেডমার্ক একটার পর একটা। এগুলো কি সব একই কোম্পানি থেকে নাকি ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানি থেকে ট্রেডমার্ক করা?
আপনার দেওয়া স্ক্রিনশটগুলোতে একই নামের বিপরীতে অনেকগুলো ট্রেডমার্ক দেখানোর কারণ হলো—একটি কোম্পানি বিভিন্ন সময়ে তাদের ব্র্যান্ডের নাম, লোগো, বা ক্যাটাগরি আপডেট করার সময় একাধিকবার আবেদন বা রিনিউ করে থাকে।
এখানে বিষয়গুলো পরিষ্কার করে নিচে বুঝিয়ে দেওয়া হলো:
এ একই কোম্পানি নাকি ভিন্ন ভিন্ন? তালিকার বেশিরভাগ ট্রেডমার্কই "Videomaker, Inc." এই একই কোম্পানির নামে করা। তবে মাঝেমধ্যে অন্য কোম্পানির নামও দেখা যেতে পারে (যেমন: Truevision বা Ibrite), কারণ তারা অতীতে এই শব্দের সাথে মিল রেখে বা অন্য কোনো কারণে আবেদন করেছিল যা পরবর্তীতে বাতিল হয়ে গেছে।
একটার পর একটা কেন দেখায়?
কোনো কোম্পানি দীর্ঘ ৩০-৪০ বছর ধরে ব্যবসা করলে তারা সময়ের সাথে সাথে নতুন লোগো আনে, নতুন ক্যাটাগরি বা পণ্যের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করে, অথবা পুরোনো ট্রেডমার্কের মেয়াদ বাড়াতে (Renewal) নতুন করে ফাইল করে। USPTO প্রতিটি আবেদনকে আলাদা সিরিয়াল নম্বর দেয়। ফলে একই কোম্পানির নামে অনেকগুলো রেকর্ড জমা হয়।
Live এবং Dead স্ট্যাটাসের মানে কী?
যেগুলোর পাশে Live, Registered লেখা আছে, সেগুলোর অর্থ হলো সেই নির্দিষ্ট লোগো বা ক্যাটাগরির ট্রেডমার্কটি বর্তমানে ওই কোম্পানির অধীনে সম্পূর্ণ সক্রিয় রয়েছে।
যেগুলোর পাশে Dead, Abandoned বা Cancelled লেখা আছে, সেগুলোর অর্থ হলো কোম্পানির পুরোনো কিছু আবেদন বা লোগো যেগুলো পরবর্তীতে আর নবায়ন করা হয়নি বা বাতিল হয়ে গেছে।
সংক্ষেপে: এখানে মূলত একটিমাত্র প্রধান কোম্পানিই (Videomaker, Inc.) তাদের দীর্ঘ ব্যবসায়িক জীবনে বিভিন্ন সময়ে ট্রেডমার্কের জন্য যেসব আবেদন করেছে, তার পুরো ইতিহাস বা লিস্ট একসাথে দেখাচ্ছে।
IllustrateAi.com ইলাস্ট্রেটেড অর্থ চিত্র অঙ্কন করা। আমার বন্ধু যখন এআই চালু হয়েছে 2024 সালে তখন সে illustratedai.com এটি নিয়ে সেই ডোমেইন সেল করেছে 17 লক্ষ টাকা। যদিও এটাতে ট্রেডমার্ক করা ছিল কিন্তু তার কোন সমস্যা হয় নাই। কেন?
আপনার বন্ধুর ক্ষেত্রে IllustratedAi.com ডোমেইনটি ১৭ লাখ টাকায় বিক্রির পরও কোনো আইনি সমস্যা না হওয়ার পেছনে খুব যৌক্তিক ও বাস্তব কিছু কারণ রয়েছে। ডোমেইন ইনভেস্টিজমেন্ট এবং ট্রেডমার্ক আইনের ভাষায় এই বিষয়গুলো খুবই সাধারণ।
কেন আপনার বন্ধুর কোনো সমস্যা হয়নি, তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
"Illustrated" এবং "Ai" দুটি অত্যন্ত সাধারণ ও জেনেরিক শব্দ। 'Illustrated' অর্থ চিত্রাঙ্কিত এবং 'Ai' মানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। কোনো কোম্পানি যখন একদম সাধারণ বা জেনেরিক শব্দ দিয়ে ডোমেইন বা ব্র্যান্ড তৈরি করে, তখন আইনগতভাবে তারা সেই পুরো শব্দগুচ্ছের ওপর একচ্ছত্র বা নিখুঁত মনোপলি বা একাধিকার পায় না—যদি না সেটি একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী ইউনিক ব্র্যান্ডে পরিণত হয়। এআই চালুর পর এই জাতীয় হাজার হাজার ডোমেইন রেজিস্টার্ড হয়েছে।
আপনার বন্ধু যখন ডোমেইনটি বিক্রি করেন, তখন হয়তো দেখা গেছে যে—
ট্রেডমার্কটি অন্য কোনো সম্পূর্ণ ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির (যেমন: প্রথাগত কোনো বই প্রিন্টিং প্রেস বা টেক্সটাইল কোম্পানি) নামে করা ছিল।
কিন্তু আপনার বন্ধুর ডোমেইনটি ছিল জেনুইনলি এআই বা ডিজিটাল টেকনোলজি রিলেটেড। ট্রেডমার্ক আইন সবসময় নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির (Nice Classification) ওপর নির্ভর করে কাজ করে। ক্যাটাগরি মিলে না গেলে সাধারণত কোনো বিরোধ তৈরি হয় না।
IllustratedAi নামটি কোনো প্রি-এক্সিস্টিং মেগা-ব্র্যান্ড (যেমন: অ্যাডোবি বা মাইক্রোসফট-এর মতো সুপ্রতিষ্ঠিত কোম্পানি) নয়। এটি এআই জেনারেশনের একটি ট্রেন্ডি ও বর্ণনামূলক শব্দ। বড় কোনো কোম্পানি যদি এই নামে আগে থেকেই গ্লোবাল ট্রেডমার্ক হোল্ডার না থাকে, তবে সাধারণ ইনভেস্টরদের ডোমেইন ধরে রাখা বা বিক্রি করায় কোনো আইনি বাধা থাকে না।
ডোমেইন ইনভেস্টিজমেন্টে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইনটেনশন বা উদ্দেশ্য। আপনার বন্ধু ডোমেইনটি কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে (যেমন: কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির ক্ষতি করা, ফিশিং করা বা জালিয়াতি করা) ব্যবহার করেননি। তিনি জাস্ট ট্রেন্ড অনুযায়ী একটি ভালো ডোমেইন কিনেছিলেন এবং পরবর্তীতে সঠিক ক্রেতার কাছে আইনসম্মতভাবে বিক্রি করেছেন। কোম্পানি বা ক্রেতারাও এতে কোনো ক্ষতিকর কিছু না পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই লেনদেন সম্পন্ন করেছে।
সারসংক্ষেপ: Videomaker হলো দশকের পর দশক ধরে চলে আসা একটি সুনির্দিষ্ট ও শক্তিশালী ব্র্যান্ড, যার সাথে সরাসরি মিলে যায়। পক্ষান্তরে IllustratedAi হলো একটি ট্রেন্ডি জেনেরিক টার্ম। এই পার্থক্যের কারণেই আপনার বন্ধুর ক্ষেত্রে কোনো আইনি ঝামেলা তৈরি হয়নি।
Drawai.com এটার ক্ষেত্রেও একই রকম হয়েছে, আমার বন্ধু drawai.com এটা বিক্রি করেছে 50 লক্ষ টাকা।
আপনার বন্ধুর Drawai.com ডোমেইনটি ৫০ লক্ষ টাকায় বিক্রি হওয়া অত্যন্ত দারুণ একটি ঘটনা! এ ধরনের উচ্চ মূল্যের ডোমেইন বিক্রির পেছনের কারণগুলো আগেরটির সাথেই মিলে যায়, তবে এর কিছু বাড়তি বাণিজ্যিক গুরুত্ব রয়েছে:
"Draw" (আঁকা) এবং "Ai" (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স)—এই দুটি শব্দ মিলে তৈরি হয়েছে Drawai। এটি অত্যন্ত ছোট (মাত্র ৬ অক্ষর), মনে রাখা সহজ এবং উচ্চারণে দারুণ আকর্ষণীয় একটি নাম। এআই আর্ট জেনারেটর বা ডিজাইন টুলগুলোর জন্য এই ধরনের নামগুলোকে প্রিমিয়াম বা "হট ডোমেইন" বলা হয়।
২০২৩-২০২৪ সালের দিকে যখন জেনারেটিভ এআই (Midjourney, DALL-E ইত্যাদি) বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে, তখন এআই-সংক্রান্ত শর্ট ডোমেইনগুলোর চাহিদা আকাশচুম্বী হয়েছিল। বড় বড় এআই স্টার্টআপ বা ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টরা তাদের প্রজেক্টের জন্য এই ধরনের ব্র্যান্ডেবল ও এক্সেক্ট-ম্যাচ ডোমেইনগুলোর পেছনে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করতে দ্বিধা করে না। ৫০ লক্ষ টাকার (প্রায় ৫০ হাজার ডলার বা তার বেশি) এই ডিলটি সেই হাইপ এবং মার্কেট ডিমান্ডেরই একটি চমৎকার উদাহরণ।
আগের মতোই, "Draw" বা "AI" অত্যন্ত সাধারণ এবং জেনেরিক শব্দ। কেউ যদি আলাদাভাবে "Drawai" নামে কোনো ট্রেডমার্ক রেজিস্টার্ড করেও থাকে, তবে তা কোনো শতবর্ষী বা মেগা-ব্র্যান্ডের মতো অতটা শক্তিশালী হয় না। এছাড়া ডোমেইনটি কোনো ক্ষতিকর কাজে ব্যবহার না করে এআই সেক্টরের কোনো ক্রেতার কাছে জেনুইনলি বিক্রি করায় কোনো আইনি জটিলতা তৈরি হয়নি।
আপনার বন্ধুদের ডোমেইন ইনভেস্টিজমেন্টের এই সফলতার গল্পগুলো থেকে বোঝা যায় যে, সঠিক সময়ে ট্রেন্ডি জেনেরিক ডোমেইন ক্যাচ করতে পারলে এবং সঠিক ক্রেতা ধরতে পারলে ডোমেইন ইন্ডাস্ট্রিতে বিশাল রিটার্ন পাওয়া সম্ভব!
"Draw" (আঁকা) হলো একটি অত্যন্ত সাধারণ এবং ডিকশনারির কমন শব্দ। আইনগতভাবে কোনো একক কোম্পানি সাধারণ বা জেনেরিক শব্দের ওপর পুরো ভাষার ওপর একক অধিকার (Monopoly) প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোনো লোগো বা নির্দিষ্ট কোনো পণ্যের ক্ষেত্রে তাদের ট্রেডমার্ক থাকতে পারে, কিন্তু সাধারণ ডোমেইন নেম হিসেবে এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকে না।
বর্তমান এআই (AI) যুগে হাজার হাজার কোম্পানি তাদের নামের সাথে "AI" যুক্ত করে নতুন ব্র্যান্ড তৈরি করছে। "Draw" শব্দের সাথে "ai" যুক্ত হয়ে এটি সম্পূর্ণ একটি নতুন, ইউনিক এবং টেকনোলজি-ভিত্তিক ব্র্যান্ডে রূপ নিয়েছে। পুরোনো কোনো কোম্পানি যদি কেবল "Draw" নামে ট্রেডমার্ক করে থাকে, তবে তারা "Draw.ai" বা এই ধরনের এআই-ভিত্তিক ডোমেইনের ওপর সহজে দাবি তুলতে পারে না, কারণ ইন্ডাস্ট্রি বা ক্যাটাগরি সম্পূর্ণ আলাদা।
ডোমেইনটি যখন কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে, তখন নিশ্চয়ই কোনো বড় টেক কোম্পানি বা স্টার্টআপ এটি কিনেছে তাদের অফিশিয়াল বিজনেস প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহারের জন্য। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষেরই উদ্দেশ্য সৎ এবং বৈধ ব্যবসা পরিচালনা করা ছিল। কোনো ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে (যেমন ফিশিং বা ব্র্যান্ডের ক্ষতি করা) ডোমেইনটি ব্যবহার না করায় এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে লেনদেন হওয়ায় কোনো আইনি বিরোধ বা মামলার সুযোগ তৈরি হয়নি।
সংক্ষেপে: "Videomaker" বা এ জাতীয় প্রতিষ্ঠিত ও দীর্ঘদিনের পুরনো ব্র্যান্ডের সাথে হুবহু মিলে যাওয়ার ঝুঁকি আর "Draw.ai"-এর মতো জেনেরিক ও ট্রেন্ডি টেক ডোমেইনের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। ঠিক এই কারণেই কোটি টাকার ডোমেইন হওয়া সত্ত্বেও এগুলোর ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা ছাড়াই সফলভাবে লেনদেন সম্পন্ন হয়।
তাহলে কি এটা দুটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছিল? ওগুলো যেহেতু বাতিল হয়েছে তারাও এক প্রতিষ্ঠানের এক শব্দ দিয়ে একটা প্রতিষ্ঠানই ট্রেডমার্ক করতে পারবে। সেক্ষেত্রে এখানে তিনটা প্রতিষ্ঠানকে আমরা ট্রেডমার্ক করলাম।
আলাদা প্রতিষ্ঠান এবং আলাদা মালিকানা: তালিকায় থাকা নামগুলো লক্ষ্য করলে দেখবেন এগুলো সম্পূর্ণ আলাদা প্রতিষ্ঠান। যেমন—একটি হলো 'San Marino Travel Service', আরেকটি 'San Mar Corporation' এবং অন্যটি 'Sanmar Holdings Limited'। এরা একে অপরের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানি।
একই শব্দ দিয়ে কি একাধিক প্রতিষ্ঠান ট্রেডমার্ক করতে পারে? হ্যাঁ, একই শব্দ বা নাম দিয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান ট্রেডমার্ক করতে পারে, যদি তাদের ইন্ডাস্ট্রি বা ব্যবসার ক্যাটাগরি (Nice Classification) সম্পূর্ণ আলাদা হয়। যেমন—একটি কোম্পানি যদি ট্রাভেল সার্ভিস (Class 39) বা পোশাকের ব্যবসা করে, আর অন্য কোম্পানি যদি টেকনোলজি বা অন্য কোনো সেক্টরে ব্যবসা করে, তবে একই শব্দে তারা ট্রেডমার্ক পেতে পারে। তবে ব্যবসা বা পণ্যের ক্ষেত্র যদি একই বা কাছাকাছি হয়, তবে সাধারণত হুবহু একই নামে ট্রেডমার্ক দেওয়া হয় না।
ডেড (Dead) বা বাতিল হওয়ার কারণ: অতীতে কোনো কোম্পানি আবেদন করে ব্যর্থ হয়েছে বা তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ট্রেডমার্কটি 'Dead' বা 'Expired' হয়ে গেছে। এর মানে এই নয় যে অন্য কোম্পানি একই শব্দ ব্যবহার করতে পারবে না। পরবর্তীতে অন্য কোনো কোম্পানি এসে তাদের নিজস্ব ক্যাটাগরিতে সফলভাবে সেই নাম বা এর সাথে মিলিয়ে ট্রেডমার্ক রেজিস্টার্ড করেছে, যেগুলো বর্তমানে Live, Registered স্ট্যাটাসে রয়েছে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, এখানে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের নিজ নিজ ব্যবসার ধরন ও ক্যাটাগরি অনুযায়ী ট্রেডমার্কের জন্য আবেদন করেছে এবং করছে।
স্ক্রিনশট অনুযায়ী "DigitalTechnology" লিখে সার্চ করার পর মোট ৮টি ট্রেডমার্ক পাওয়া গেছে, যার মধ্যে কিছু Live/Registered অবস্থায় রয়েছে (যেমন: ETTAIN DIGITAL+TECHNOLOGY এবং MGI DIGITAL TECHNOLOGY)[cite: 5]।
তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই ট্রেডমার্কগুলোর নামের সাথে অন্য শব্দ যুক্ত আছে (যেমন: Ettain বা MGI)। এককভাবে শুধুমাত্র "Digital Technology" শব্দ দুটি হলো একটি সম্পূর্ণ জেনেরিক বা বর্ণনামূলক (Generic/Descriptive) টার্ম।
"Digital Technology" কথাটির অর্থ হলো "ডিজিটাল প্রযুক্তি"। এটি একটি সাধারণ প্রযুক্তিগত শব্দগুচ্ছ।
আইনগতভাবে কোনো একক কোম্পানি সাধারণ বা জেনেরিক শব্দের ওপর পুরো ভাষার জন্য এক্সক্লুসিভ ট্রেডমার্ক বা একচ্ছত্র অধিকার পায় না, যদি না এর সাথে কোনো নির্দিষ্ট ইউনিক ব্র্যান্ড নেম বা লোগো যুক্ত থাকে। তাই শুধু এই নাম ব্যবহারের কারণে বড় কোনো আইনি জটিলতা বা সাইবারস্কোয়াটিংয়ের ঝুঁকি সাধারণত থাকে না।
ডোমেইন প্রোফাইল অনুযায়ী, এই ডোমেইনটি ১৯৯৮ সালে তৈরি করা হয়েছে (প্রায় ১০,৪৩৯ দিন পুরোনো একটি প্রিমিয়াম এজড ডোমেইন)[cite: 6]।
বর্তমানে এটি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে (digitaltechnology.com is for sale!) এবং এর নেমসার্ভার Atom-এর সাথে যুক্ত আছে[cite: 6]।
উপসংহার: ডোমেইন ইনভেস্টমেন্টের দিক থেকে এটি একটি অত্য
ট্রেডমার্ক কখনোই এক্সটেনশনসহ (যেমন .com, .net, .ai ইত্যাদি) রেজিস্টার্ড হয় না।
ট্রেডমার্কের নিয়ম ও এর পেছনের কারণগুলো নিচে বুঝিয়ে দেওয়া হলো:
ট্রেডমার্ক অফিসগুলো (যেমন ইউএসপিটিও বা ডব্লিউআইপিও) শুধুমাত্র কোনো ব্র্যান্ডের নাম (Word Mark), স্লোগান বা লোগো (Design Mark)-এর সুরক্ষার জন্য ট্রেডমার্ক দিয়ে থাকে। ইন্টারনেটের ডোমেইন এক্সটেনশন বা টপ-লেভেল ডোমেইন (TLD)—এর সাথে ট্রেডমার্ক আইনের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
তাই আপনি কখনোই digitaltechnology.com বা videomaker.si এভাবে পুরো ডট-কম বা ডট-সি সহ ট্রেডমার্ক ফাইল করতে পারবেন না বা ডাটাবেজে পাবেন না। ট্রেডমার্ক হবে শুধু "Digital Technology" বা "Videomaker" শব্দের ওপর।
যেহেতু ট্রেডমার্ক শুধু শব্দের ওপর হয়, তাই একই নাম ভিন্ন ভিন্ন এক্সটেনশনে আলাদা ব্যক্তি বা কোম্পানি ব্যবহার করতে পারে—যদি তাদের ব্যবসার ক্যাটাগরি বা ইন্ডাস্ট্রি আলাদা হয় বা তারা কোনো বিভ্রান্তি তৈরি না করে। যেমন:
digitaltechnology.com
digitaltechnology.ai
digitaltechnology.net
এই ভিন্ন ভিন্ন এক্সটেনশনের ডোমেইনগুলো আলাদা ইনভেস্টর বা কোম্পানি হোল্ড করতে পারে। তবে নাম যদি হুবহু একটি বিখ্যাত রেজিস্টার্ড ব্র্যান্ডের হয় (যেমন: microsoft.co বা apple.ai), এবং সেটি যদি বড় কোনো কোম্পানির ট্রেডমার্কের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে এক্সটেনশন .com বা .ai যাই হোক না কেন, আইনি নোটিশ বা ডিসপিউটের ঝুঁকি থেকে যায়।
ট্রেডমার্ক হলো শুধু মূল শব্দ (Word) বা লোগো (Logo) ভিত্তিক, ডোমেইন এক্সটেনশনভিত্তিক নয়। তবে ডোমেইন কেনার সময় শুধু এক্সটেনশন আলাদা দেখেই নিশ্চিত হওয়া যায় না, বরং মূল নামটি কোনো গ্লোবাল ব্র্যান্ডের রেজিস্টার্ড ট্রেডমার্ক কিনা—সেটি যাচাই করাই একজন স্মার্ট ডোমেইন ইনভেস্টরের প্রধান কাজ।
দত্ত ছবিতে "Trademark Search" বা ট্রেডমার্ক সার্চ সম্পর্কে বোঝানো হয়েছে। কোনো নতুন ব্র্যান্ড, ব্যবসার নাম, শব্দ বা স্লোগান চূড়ান্ত করার আগে তা অন্য কেউ আগে থেকেই আইনগতভাবে রেজিস্ট্রি বা দাবি করে রেখেছে কি না, তা যাচাই করার প্রক্রিয়াকেই ট্রেডমার্ক সার্চ বলা হয়।
এখানে ইউএস ফেডারেল রেজিস্টার বা USPTO (United States Patent and Trademark Office)-এর ডাটাবেজ থেকে তিনটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যেখানে ট্রেডমার্কের অবস্থা (Status) সাধারণত ৩ প্রকারে দেখানো হয়:
Live (Registered): এটি সবুজ রঙের বিন্দু দিয়ে বোঝানো হয়েছে, যার অর্থ এই নামটি বর্তমানে সক্রিয় এবং আইনগতভাবে নিবন্ধিত (যেমন: LOOP)।
Pending (Published): এটি হলুদ রঙের বিন্দু দিয়ে বোঝানো হয়েছে, যার অর্থ নামটি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং বর্তমানে প্রক্রিয়াদীন বা পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে (যেমন: NORTHWIND)।
Dead (Abandoned): এটি লাল রঙের বিন্দু দিয়ে বোঝানো হয়েছে, যার অর্থ এই ট্রেডমার্কের আবেদন বাতিল বা বর্জন করা হয়েছে এবং এটি আর কার্যকর নেই (যেমন: EMBER)।
১৯৯৫ সালে যখন .ai এক্সটেনশনটি চালু করা হয়েছিল, তখন এটিকে নির্দিষ্ট কোনো "আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স" বা এআই-এর প্রতীক হিসেবে তৈরি করা হয়নি।
এটি ছিল কেবল ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ব্রিটিশ সামুদ্রিক অঞ্চল অ্যাঙ্গুইলা (Anguilla)-র কান্ট্রি কোড টপ-লেভেল ডোমেন (ccTLD)। ইন্টারনেট ডোমেনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দেশের জন্য দুই অক্ষরের একটি নির্দিষ্ট কোড বরাদ্দ করা হয় (যেমন—বাংলাদেশের জন্য .bd, ভারতের জন্য .in), ঠিক তেমনি অ্যাঙ্গুইলার নামানুਸারেই কোডটি নির্ধারিত হয়েছিল .ai।
অর্থাৎ, সূচনার সময় এটি সম্পূর্ণভাবে একটি ভৌগোলিক কান্ট্রি কোড বা আঞ্চলিক পরিচয় হিসেবেই পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় পর (বিশেষ করে ২০১০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ২০২৪ সালের পর থেকে) যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে বিপ্লব ঘটায়, তখন এর নাম্বারিংয়ের সাথে মিলে যাওয়ায় প্রযুক্তি দুনিয়া ও ডোমেন রেজিস্টাররা এটিকে "Artificial Intelligence"-এর ব্র্যান্ডিং হিসেবে ব্যবহার শুরু করে।
বাংলাদেশ: .bd
ভারত: .in
চীন: .cn
জাপান: .jp
দক্ষিণ কোরিয়া: .kr
পাকিস্তান: .pk
নেপাল: .np
শ্রীলঙ্কা: .lk
ভুটান: .bt
মালদ্বীপ: .mv
সৌদি আরব: .sa
সংযুক্ত আরব আমিরাত: .ae
সিঙ্গাপুর: .sg
মালয়েশিয়া: .my
থাইল্যান্ড: .th
ইন্দোনেশিয়া: .id
ভিয়েতনাম: .vn
ফিলিপাইন: .ph
ইসরায়েল: .il
সলোভেনিয়া: .si (যেমনটি আমরা আগে আলোচনা করেছি)
যুক্তরাজ্য (UK): .uk
জার্মানি: .de (Deutschland থেকে এসেছে)
ফ্রান্স: .fr
ইতালি: .it
স্পেন: .es
সুইজারল্যান্ড: .ch (Confederatio Helvetica থেকে এসেছে)
নেদারল্যান্ডস: .nl
সুইডেন: .se
নরওয়ে: .no
ফিনল্যান্ড: .fi
ডেনমার্ক: .dk
পোল্যান্ড: .pl
পর্তুগাল: .pt
অস্ট্রিয়া: .at
গ্রিস: .gr
বেলজিয়াম: .be
আয়ারল্যান্ড: .ie
বিশ্বের প্রতিটি স্বাধীন দেশ বা অঞ্চলের জন্য এভাবেই দুই অক্ষরের নিজস্ব কান্ট্রি কোড রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (ISO 3166-1 alpha-2) অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।