ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে ক্লাসিফিকেশন (Nice Classification) বা আন্তর্জাতিক পণ্য ও সেবার শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর অধীনে মোট ৪৫টি ক্লাস বা ক্যাটাগরি রয়েছে। যার মধ্যে ১ থেকে ৩৪ পর্যন্ত হলো পণ্যের ক্লাস (Goods) এবং ৩৫ থেকে ৪৫ পর্যন্ত হলো সেবার ক্লাস (Services)।
আপনার সুবিধার্থে ট্রেডমার্ক ক্লাসের মোট প্রকারভেদ এবং কোন ক্লাসে কী ধরনের পণ্য বা সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা নিচে সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়া হলো:
ট্রেডমার্কের ক্লাসগুলোকে মূলত দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
পণ্যের ক্লাস (Goods Classes - Class 1 to 34): যা শারীরিক বা দৃশ্যমান বিভিন্ন পণ্য বা ম্যানুফ্যাকচারিং আইটেমগুলোকে কভার করে।
সেবার ক্লাস (Services Classes - Class 35 to 45): যা কোনো সার্ভিস, সফটওয়্যার, বিজনেস বা কনসালটেন্সি সেবা প্রদানকে কভার করে।
পণ্যের ক্লাস (Goods: Class 1 - 34)
Class 1: শিল্প, বিজ্ঞান বা কৃষিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্যাদি।
Class 2: রং, বার্নিশ, মরিচা রোধক পদার্থ।
Class 3: প্রসাধনী, সাবান, পারফিউম ও পরিচ্ছন্নতাকারী সামগ্রী।
Class 4: তেল, গ্রিজ, লুব্রিকেন্ট ও জ্বালানি বা মোমবাতি।
Class 5: ফার্মাসিউটিক্যাল বা চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ ও স্বাস্থ্যগত পণ্য।
Class 6: সাধারণ ধাতু এবং এর তৈরি বিভিন্ন হার্ডওয়্যার বা পাইপ।
Class 7: ইঞ্জিন, মেশিনারি এবং রোবটিক্স বা শিল্প যন্ত্রপাতি।
Class 8: হাত দিয়ে চালিত কাটার যন্ত্র, ছুরি, কাঁচি ও টুলস।
Class 9: বৈজ্ঞানিক, ইলেকট্রনিক, কম্পিউটার সফটওয়্যার, ডিজিটাল ডিভাইস এবং মোবাইল অ্যাপস (যেমন আপনার আগের ফ্লাড অ্যালার্টে দেখা হার্ডওয়্যার/সফটওয়্যার ক্লাস)।
Class 10: চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি বা কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।
Class 11: আলো, গরম করার যন্ত্র, এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ বা স্যানিটারি ইন্সটলেশন।
Class 12: যানবাহন, গাড়ি, বিমান বা নৌযান।
Class 13: অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আতশবাজি।
Class 14: মূল্যবান ধাতু, গহনা, ঘড়ি।
Class 15: বাদ্যযন্ত্র।
Class 16: কাগজ, কার্ডবোর্ড, বই, প্রিন্টিং সামগ্রী বা স্টেশনারি।
Class 17: রাবার, প্লাস্টিক শিট, ইনসুলেশন বা পাইপ সিলিং মেটেরিয়াল।
Class 18: চামড়া, ট্রাভেল ব্যাগ, ছাতা।
Class 19: বিল্ডিং তৈরির অ-ধাতু সামগ্রী (যেমন সিমেন্ট, ইট)।
Class 20: আসবাবপত্র, আয়না, ফ্রেম।
Class 21: (যেমন আপনি উল্লেখ করেছেন) গৃহস্থালী বা রান্নাঘরের তৈজসপত্র (যেমন বাসনপত্র, চিরুনি, স্পঞ্জ, গ্লাস)।
Class 22: দড়ি, জাল, তাবু, তুলো বা ফাইবারের কাঁচামাল।
Class 23: সুতা ও টেক্সটাইল থ্রেড।
Class 24: কাপড়, বেডশিট, পর্দার কাপড় বা টেক্সটাইল পণ্য।
Class 25: পোশাক-আশাক, জুতো, টুপি।
Class 26: লেস, ফিতা, বোতাম, এমব্রয়ডারির জিনিসপত্র।
Class 27: কার্পেট, মাদুর, ওয়ালপেপার।
Class 28: খেলাধুলার সামগ্রী, খেলনা।
Class 29: মাংস, মাছ, দুধ ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য।
Class 30: কফি, চা, চিনি, চাল, মসলা, পাউরুটি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার।
Class 31: তাজা ফলমূল, শাকসবজি, বীজ ও কৃষি বা প্রাণীর খাদ্য।
Class 32: বিয়ার, মিনারেল ওয়াটার, জুস ও নন-অ্যালকোহলিক পানীয়।
Class 33: অ্যালকোহলিক পানীয় (বিয়ার বাদে)।
Class 34: তামাক এবং ধূমপান সংশ্লিষ্ট সামগ্রী।
সেবার ক্লাস (Services: Class 35 - 45)
Class 35: বিজ্ঞাপন, ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা (Business Management), অফিস প্রশাসন এবং কমার্শিয়াল বা রিটেইল শপ সেবা।
Class 36: আর্থিক (Financial), ব্যাংকিং, রিয়েল এস্টেট এবং ইন্স্যুরেন্স সেবা।
Class 37: কনস্ট্রাকশন, ভবন নির্মাণ, মেরামত ও ইনস্টলেশন সেবা।
Class 38: টেলিকমিউনিকেশন বা ইন্টারনেট ব্রডকাস্টিং সেবা।
Class 39: পরিবহন, লজিস্টিকস, পণ্য ডেলিভারি এবং ট্রাভেল অ্যারেঞ্জমেন্ট।
Class 40: বস্তু বা উপাদানের প্রক্রিয়াজাতকরণ (যেমন রিসাইক্লিং বা প্রিন্টিং সেবা)।
Class 41: শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, বিনোদন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম।
Class 42: (যেমন আপনি উল্লেখ করেছেন) বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সেবা, কম্পিউটার সফটওয়্যার ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট এবং টেকনোলজি কনসালটেন্সি বা এআই রিসার্চ।
Class 43: হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্যাটারিং ও খাবার পরিবেশনের সেবা।
Class 44: মেডিকেল সেবা, ডেন্টিস্ট্রি, পশুচিকিৎসা এবং কৃষি বা উদ্যানপালন (Horticulture) সেবা।
Class 45: আইনি সেবা (Legal Services), নিরাপত্তা সেবা এবং ব্যক্তিগত বা সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম।
জেনেরিক বা বর্ণনামূলক শব্দ বলতে কি বুঝায়?
ট্রেডমার্ক এবং ব্র্যান্ডিংয়ের ভাষায় জেনেরিক বা বর্ণনামূলক শব্দ (Generic or Descriptive Terms) বলতে এমন সাধারণ শব্দগুলোকে বোঝায়, যা কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানি বা ব্র্যান্ডের নিজস্ব সম্পত্তি নয়, বরং কোনো নির্দিষ্ট পণ্য, সেবা বা শিল্পকে সামগ্রিকভাবে বোঝাতে বা বর্ণনা করতে সাধারণ মানুষ বা সবাই ব্যবহার করে থাকে।
জেনেরিক বা বর্ণনামূলক শব্দগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
জেনেরিক শব্দ হলো কোনো পণ্যের সাধারণ বা মূল নাম। যেমন—আপনি যদি জুতো বিক্রির জন্য একটি দোকান খোলেন এবং আপনার দোকানের নাম দেন "Shoes", তবে এটি একটি জেনেরিক শব্দ হবে।
মূল বৈশিষ্ট্য: আইন অনুযায়ী, জেনেরিক শব্দের ওপর কেউ একক বা একচ্ছত্র ট্রেডমার্ক অধিকার (Exclusive Rights) দাবি করতে পারে না। কারণ আইন সবার জন্য এই শব্দগুলো উন্মুক্ত রাখে, যাতে অন্য কোনো ব্যবসায়ীও তার পণ্যের সাধারণ পরিচয় দিতে এই শব্দ ব্যবহার করতে পারে। (যেমন—কেউ চাইলেই "Apple" নামের ফল বা "Car" গাড়ি শব্দটি ট্রেডমার্ক করে অন্য কাউকে ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে পারবে না)।
বর্ণনামূলক শব্দ হলো সেই শব্দ, যা কোনো পণ্যের গুণাগুণ, বৈশিষ্ট্য, উদ্দেশ্য, আকার বা স্বাদ সরাসরি বর্ণনা করে।
যেমন—আপনি যদি একটি জুস ব্র্যান্ডের নাম রাখেন "Sweet Mango Juice" (মিষ্টি আমের জুস), তবে এখানে "Sweet" বা "Mango Juice" শব্দগুলো হলো বর্ণনামূলক। এগুলো জুসটির স্বাদ ও ধরন কেমন তা সরাসরি বর্ণনা করছে।
ট্রেডমার্কের ক্ষেত্রে সমস্যা: সরাসরি বর্ণনামূলক শব্দের ক্ষেত্রেও সহজে ট্রেডমার্ক পাওয়া যায় না। কারণ অন্য কোনো প্রতিযোগীকেও তো তার পণ্যের বর্ণনা দিতে এই শব্দগুলো ব্যবহার করতে হতে পারে। তবে হ্যাঁ, কোনো বর্ণনামূলক শব্দ যদি বছরের পর বছর ধরে একা ব্যবহারের ফলে মানুষের মনে একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড হিসেবে স্থায়ী রূপ নেয় (Secondary Meaning তৈরি করে), তবে অনেক সময় বিশেষ শর্তে সেটির ট্রেডমার্ক পাওয়া যেতে পারে।
আপনি কিছুক্ষণ আগে যে GlobalClimate বা Floodalert শব্দগুলো নিয়ে দেখছিলেন, এগুলো অনেকটাই জেনেরিক বা বর্ণনামূলক প্রকৃতির (কারণ এগুলো সরাসরি বৈশ্বিক জলবায়ু বা বন্যা সতর্কবার্তাকে বোঝায়)।
এই ধরনের নামের সুবিধা হলো—গ্রাহকরা নাম দেখলেই বুঝতে পারে ওয়েবসাইটটি কী নিয়ে কাজ করে।
তবে অসুবিধা হলো—এগুলো জেনেরিক বা বর্ণনামূলক হওয়ায় কেউ একা এদের ওপর শতভাগ আইনি একাধিপত্য বা ট্রেডমার্ক সহজে দাবি করতে পারে না, যা আপনার ব্র্যান্ডিং বা ডোমেন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনি ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
ডোমেইনের জন্য নাম বা ব্র্যান্ডের নাম নির্বাচন করার সময় সেটি ট্রেডমার্ক করা আছে কি না, তা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ডোমেইন পেলেও ট্রেডমার্ক করা নাম ব্যবহার করলে পরবর্তীতে লিগ্যাল ঝামেলা বা কপিরাইট জটিলতায় পড়তে হতে পারে।
আপনার টার্গেট মার্কেট এবং গ্লোবাল উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ট্রেডমার্ক যাচাই করার সবচাইতে সেরা এবং অথেন্টিক ওয়েবসাইটগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
IP Law Firm Bangladesh
আপনার ওয়েবসাইট বা ব্র্যান্ড যদি বিশ্বవ্যাপী (যেমন: যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ বা আন্তর্জাতিকভাবে) চালাতে চান, তবে এই প্ল্যাটফর্মগুলো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য:
World Intellectual Property Organization (WIPO)
WIPO Global Brand Database (বিশ্ব মেধা সম্পদ সংস্থা):
World Intellectual Property Organization (WIPO)
ওয়েবসাইট: branddb.wipo.int
World Intellectual Property Organization (WIPO)
কেন ব্যবহার করবেন: এটি জাতিসংঘের অধীনস্থ সংস্থা WIPO-এর গ্লোবাল ডাটাবেজ। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ট্রেডমার্ক, ব্র্যান্ড নেম এবং লোগো একসাথে সার্চ করে দেখতে পারবেন।
TMview:
EUIPN
ওয়েবসাইট: tmview.euipo.europa.eu
EUIPN
কেন ব্যবহার করবেন: এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং বৃহৎ ফ্রি ট্রেডমার্ক সার্চ টুল। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বহু দেশের ট্রেডমার্ক অফিস এই ডাটাবেজের সাথে যুক্ত। খুব সহজেই বিশ্বজুড়ে কোনো নাম রেজিস্টার্ড কি না তা এখানে যাচাই করা যায়।
EUIPN
অধিকাংশ অনলাইন বিজনেস (.com ডোমেইন কিংবা গ্লোবাল কাস্টমার টার্গেট করে) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মূল বাজার ধরে শুরু হয়। সেক্ষেত্রে ইউএসএ-এর ডাটাবেজ চেক করা বাধ্যতামূলক:
iGERENT
USPTO Trademark Electronic Search System (TESS):
ওয়েবসাইট: uspto.gov (Trademark section)
iGERENT
কেন ব্যবহার করবেন: এটি United States Patent and Trademark Office-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট। আমেরিকায় আপনার নামটি ট্রেডমার্ক করা আছে কি না বা সমার্থক কোনো নাম রেজিস্টার্ড আছে কি না, তা নিখুঁতভাবে দেখতে এটিই সেরা মাধ্যম।
Marcaria.com
আপনার প্রজেক্ট বা ব্র্যান্ড যদি বিশেষভাবে বাংলাদেশের বাজারকে টার্গেট করে, তবে স্থানীয় আইন ও রেজিস্ট্রেশন চেক করা উচিত:
iGERENT
DPDT (Department of Patents, Designs and Trademarks):
IP Law Firm Bangladesh
ওয়েবসাইট: dpdt.gov.bd
IP Law Firm Bangladesh
কেন ব্যবহার করবেন: এটি বাংলাদেশের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট। তবে মনে রাখবেন, ডিপ্রিডিএ-এর অনলাইন ডাটাবেজ সবসময় পুরোপুরি আপডেটেড বা সরাসরি সহজ সার্চ উপযোগী থাকে না। সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাদের অফিশিয়াল অফিসে গিয়ে ম্যানুয়াল বা ফরমাল সার্চ করতে হয় অথবা স্থানীয় কোনো আইপি (IP) ল’ ফার্মের সহায়তা নেওয়া লাগতে পারে।
দ্রুত প্রাথমিক ধারণা নেওয়ার জন্য কিছু থার্ড-পার্টি টুল ব্যবহার করতে পারেন, যা ডোমেইন নেওয়ার সময় ট্রেডমার্ক মিল আছে কি না তা সহজেই দেখিয়ে দেয়:
Namecheap / GoDaddy: ডোমেইন সার্চ করার সময় অনেক সময় ডোমেইন প্রোভাইডাররাই ট্রেডমার্ক ওয়ার্নিং বা অ্যালার্ট দিয়ে দেয়।
Trademarkia (trademarkia.com) অথবা Trademark Elite: এগুলো গ্লোবালি বিভিন্ন দেশের ট্রেডমার্ক রেকর্ড খুব সহজে এক জায়গায় সার্চ করার সুবিধা দেয়।
প্রো-টিপ: শুধু ডোমেইনে নাম খালি পাওয়া মানেই এই নয় যে সেটি ট্রেডমার্কমুক্ত। তাই ডোমেইন কেনার আগে অন্তত WIPO Global Brand Database এবং আপনার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী নির্দিষ্ট দেশের (যেমন ইউএসএ হলে USPTO) ডাটাবেজে নাম সার্চ করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
World Intellectual Property Organization (WIPO)
Atom নামটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত টেকনোলজি ব্র্যান্ড হওয়ায় এটি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ট্রেডমার্ক করা থাকতে পারে। আপনি যদি ডোমেইনের জন্য এই নামটি বা এর সাথে মিলিয়ে কোনো নাম (যেমন: AtomHost, MyAtomApp ইত্যাদি) বেছে নিতে চান, তবে সাবধান থাকা উচিত। কারণ গিটহাব বা অন্য কোনো টেকনোলজি কোম্পানি এই নাম বা এর কাছাকাছি কিছু ট্রেডমার্ক করে রাখতে পারে।
Atom.com (পূর্বে যেটি Squadhelp নামে পরিচিত ছিল) প্ল্যাটফর্মের ট্রেডমার্ক সার্চ বা ক্লিয়ারেন্স অপশনটি বেশ কার্যকর এবং প্রাথমিক যাচাইয়ের জন্য দারুণ একটি টুল। তবে এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা ও সুবিধা রয়েছে, যা আপনার জানা থাকা উচিত।
নিচে Atom-এর ট্রেডমার্ক ফিচারের কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
একাধিক ডাটাবেজের সমন্বয়: সাধারণ ফ্রি টুলগুলো শুধু আমেরিকার USPTO ডাটাবেজ চেক করতে পারে। পক্ষান্তরে, Atom এক সাথে যুক্তরাষ্ট্র (USPTO), যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং কানাডার মতো বড় বড় দেশের ট্রেডমার্ক ডাটাবেজ স্ক্যান করে রেজल्ट দেয়।
ঝামেলাহীন ও দ্রুত ফলাফল: যেকোনো নাম লিখে সার্চ করলেই সেটি হুবহু বা কাছাকাছি কোনো নামে অলরেডি রেজিস্টার্ড কি না, তা খুব দ্রুত স্ক্রিনে চলে আসে। সাথে সাথে বর্তমান স্ট্যাটাস (Live বা Pending) ও মালিকের নামও দেখা যায়।
ফজি ম্যাচিং (Fuzzy Matching): বানান কিছুটা এদিক-সেদিক থাকলেও (যেমন: Atomm বা Atn) কাছাকাছি নামের কোনো ট্রেডমার্ক রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করতে এর অ্যালগরিদম বেশ ভালো কাজ করে।
পেইড প্রফেশনাল রিপোর্ট (Safety Score): আপনি চাইলে তাদের পেইড অপশনের মাধ্যমে ট্রেডমার্ক অ্যাটর্নি দ্বারা তৈরি ডিটেইলড রিপোর্ট এবং একটি 'সেফটি স্কোর' নিতে পারেন, যা ব্যবসায়িক নাম চূড়ান্ত করার আগে বড় ধরনের আইনি ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করে।
সম্পূর্ণ আইনগত নিশ্চয়তা নয়: Atom বা যেকোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ফ্রি সার্চ টুল কেবল প্রাথমিক ধারণা দেয়। এগুলো কোনো অফিশিয়াল বা চূড়ান্ত আইনি গ্যারান্টি নয়।
লোকাল বা কান্ট্রি-স্পেসিফিক লিমিটেশন: আপনি যদি আপনার প্রজেক্ট বা ডোমেইনটি এমন কোনো দেশে চালান যেটি ইউএস বা ইউরোপের বাইরে (যেমন: বাংলাদেশ বা অন্য কোনো এশিয়ান দেশ), তবে সেই দেশের স্থানীয় ট্রেডমার্ক অফিসের (যেমন DPDT) ডাটাবেজ এই টুল কাভার নাও করতে পারে।
ক্লাসিফিকেশন বা ক্যাটাগরি ইস্যু: ট্রেডমার্ক সবসময় নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরি বা পণ্যের (Nice Classification) ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়। একই নাম অন্য ইন্ডাস্ট্রিতে ট্রেডমার্ক করা থাকলেও আপনার বিজনেসের ক্ষেত্রে তা সমস্যা না-ও হতে পারে। এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অনেক সময় স্বয়ংক্রিয় টুল দিয়ে পুরোপুরি বোঝা যায় না
আপনি যদি গ্লোবাল কোনো ব্র্যান্ড বা অনলাইন প্রজেক্টের জন্য Atom-এর ট্রেডমার্ক টুল ব্যবহার করেন, তবে এটি দিয়ে প্রাথমিক ফিল্টারিং বা গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার জন্য চমৎকার কাজ করবে। তবে নামটি চূড়ান্ত করে বড় বিনিয়োগ করার আগে বা অফিশিয়াল ডোমেইন নেওয়ার পর নিজে সংশ্লিষ্ট দেশের অফিশিয়াল ডাটাবেজে (যেমন ইউএসএ-র জন্য USPTO) ম্যানুয়ালি যাচাই করে নেওয়া বা কোনো আইপি ল’ইয়ারের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ হবে।