বড় অঙ্কের ডোমেইন বিক্রি হলে (যেমন ১ লাখ ডলার বা তার বেশি) ক্রেতা বা মার্কেটপ্লেস সরাসরি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মার্কিন ডলারে (USD) পেমেন্ট পাঠায়। প্রক্রিয়াটি এভাবে কাজ করে:
রেমিট্যান্স হিসেবে আগমন: মার্কেটপ্লেস বা তাদের এসক্রো সার্ভিস (যেমন Escrow.com, Sedo, বা Atom) আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক তথা SWIFT (Society for Worldwide Interbank Financial Telecommunication) সিস্টেমের মাধ্যমে আপনার বাংলাদেশি ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা (Foreign Currency - FC) অ্যাকাউন্টে বা লোকাল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডলার পাঠায়।
ডলার থেকে টাকায় রূপান্তর: টাকা পাঠানোর দুটি পদ্ধতি হতে পারে:
ডলার অ্যাকাউন্ট (FC Account): টাকাটি সরাসরি আপনার লোকাল ব্যাংকের ডলারে জমা হতে পারে। এরপর আপনি যখন খুশি ব্যাংককে নির্দেশ দিয়ে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ডলার ভেঙে বাংলাদেশি টাকায় (BDT) রূপান্তর করে তুলতে পারবেন।
স্বয়ংক্রিয় রূপান্তর: অনেক সময় ব্যাংক সরাসরি আপনার টাকায় রূপান্তর করে লোকাল অ্যাকাউন্টে জমা করে। তবে ১ লাখ ডলারের মতো বড় অ্যামাউন্টের ক্ষেত্রে সাধারণত ব্যাংক আপনাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করবে যে আপনি ডলার হিসেবে রাখতে চান নাকি টাকায় কনভার্ট করতে চান।
এক্সচেঞ্জ রেট ও ব্যাংক চার্জ: ডলার যখন টাকায় কনভার্ট করা হয়, তখন বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত রেট এবং ওই ব্যাংকের নিজস্ব বাইং রেট অনুযায়ী টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে যোগ হবে। এছাড়া বড় অংকের রেমিট্যান্স আসার কারণে ব্যাংক সামান্য প্রসেসিং ফি বা কমিশন কাটতে পারে।
বৈদেশিক রেমিট্যান্স যখন বাংলাদেশে আসবে, তখন মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (Anti-Money Laundering) এবং ব্যাংকিং নিয়মের কারণে আপনার ব্যাংক থেকে কৌতূহলী হয়ে বা কমপ্লায়েন্সের অংশ হিসেবে সোর্সিং ডকুমেন্টস বা বৈধ কাগজপত্রের প্রমাণ চাইতে পারে।
এ ক্ষেত্রে যা যা খেয়াল রাখতে হবে এবং যে কাগজপত্র লাগবে:
ইনভয়েস বা সেলস এগ্রিমেন্ট (Sales Contract/Invoice): ডোমেইন বিক্রির পর মার্কেটপ্লেস বা এসক্রো কোম্পানি আপনাকে একটি অফিশিয়াল ট্রানজাকশন রসিদ, ইনভয়েস বা বিল অফ সেল (Bill of Sale) প্রদান করবে। সেখানে ডোমেইনের নাম, বিক্রয়মূল্য, ক্রেতা ও বিক্রেতার বিবরণ পরিষ্কারভাবে লেখা থাকে।
নামের মিল থাকতে হবে: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মার্কেটপ্লেস বা এসক্রো প্ল্যাটফর্মে আপনার যে নাম এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যে নাম রয়েছে, তার হুবহু মিল থাকতে হবে। যদি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আপনার ব্যক্তিগত নামে হয়, তবে এসক্রো অ্যাকাউন্ট বা মার্কেটপ্লেস প্রোফাইলও আপনার নিজের নামেই ভেরিফাই করা থাকতে হবে। নামে কোনো অমিল থাকলে ব্যাংক রেমিট্যান্স রিলিজ করতে জটিলতা তৈরি করতে পারে।
ব্যাংকে যা দেখাতে হবে: ব্যাংক যখন সোর্স অফ ফাণ্ড (Source of Funds) জানতে চাইবে, তখন আপনি তাদের ডোমেইন বিক্রির সেই অফিশিয়াল ইনভয়েস, এসক্রো কমপ্লিশন সার্টিফিকেট এবং চ্যাট বা প্রমাণের কাগজগুলো জমা দেবেন। ব্যাংক সেগুলো যাচাই করে আপনার অ্যাকাউন্টটি নিরাপদে ক্লিয়ারেন্স দিয়ে দেবে।
পরামর্শ: ১ লাখ ডলারের মতো বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে টাকা তোলার আগে আপনার ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার বা ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিপার্টমেন্টের সাথে আগে থেকেই কথা বলে নেওয়া ভালো, যাতে তারা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে এবং পেপারওয়ার্কগুলো স্মুথলি সম্পন্ন হয়।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম যেমন GoDaddy, Namecheap, Atom, Sedo কিংবা Spaceship-এ ডোমেইন বিক্রি হওয়ার পর অর্জিত অর্থ বাংলাদেশে নিয়ে আসার জন্য সাধারণত ৩ থেকে ৪টি প্রধান মাধ্যম ব্যবহার করা হয়:
সরাসরি ব্যাংক ওয়্যার ট্র্যান্সফার (Wire Transfer / SWIFT):
Atom, Sedo বা GoDaddy (Brokered sales)-এর মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলোতে ডোমেইন বিক্রি হলে তারা সরাসরি আপনার বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আন্তর্জাতিক SWIFT Transfer-এর মাধ্যমে ডলার পাঠায়।
ডলার বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর আপনার ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ ডেস্ক ডলার রূপান্তর করে বাংলাদেশি টাকায় (BDT) অ্যাকাউন্টে জমা করে।
পেওনিয়ার (Payoneer):
প্রায় সকল আন্তর্জাতিক ডোমেইন মার্কেটপ্লেসই (বিশেষ করে Atom, Sedo, GoDaddy, Spaceship) Payoneer সাপোর্ট করে।
মার্কেটপ্লেস থেকে ডলার পেওনিয়ার অ্যাকাউন্টে উইথড্র দেওয়া যায়। সেখান থেকে খুব সহজেই যেকোনো বাংলাদেশি লোকাল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা বিকাশ (bKash)-এ সরাসরি রূপান্তর করে টাকা আনা যায়।
পেপাল (PayPal) / জুম (Xoom):
যদিও বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ পেপাল সার্ভিস নেই, তবে আন্তর্জাতিক বিক্রেতারা পেপাল ব্যালেন্স থাকলে সেখান থেকে জুম (Xoom)-এর মাধ্যমে সরাসরি বাংলাদেশি ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা পাঠাতে পারেন (যদি প্ল্যাটফর্মটি সরাসরি থার্ড-পার্টি পেআউট অনুমোদন করে)।
ডাইরেক্ট ডিপোজিট / ACH (Payoneer Global Payment Service):
Namecheap বা Spaceship-এর ক্ষেত্রে তারা যদি ইউএস ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেআউট দিতে চায়, তবে পেওনিয়ারের মাধ্যমে প্রাপ্ত ইউএস ভার্চুয়াল ব্যাংক বিবরণী (Receiving Account) ব্যবহার করে টাকা রিসিভ করা যায় এবং পরবর্তীতে তা বাংলাদেশে লোকাল ব্যাংকে নেওয়া যায়।
বিশেষ টিপস: বড় অঙ্কের পেআউটের ক্ষেত্রে (যেমন ১,০০০ ডলার বা তার বেশি) সরাসরি Bank Wire Transfer অথবা Payoneer to Local Bank Transfer সবচেয়ে নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য মাধ্যম।